Monday, 19 October 2026

কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা আইনে আনল বড় সংশোধন, যুক্ত হবেন বেসরকারি শিক্ষকও

আসন্ন জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদেরও নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই উদ্দেশ্যে পুরনো জনগণনা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা আইনে আনল বড় সংশোধন, যুক্ত হবেন বেসরকারি শিক্ষকও

কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা বিধি সংশোধন করল

আসন্ন দেশব্যাপী জনগণনার কাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটল প্রশাসন। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এবার থেকে শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের কর্মীরাই নন, বরং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদেরও এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। এই পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিনের পুরনো নিয়মে সংশোধনী আনা হয়েছে।

ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ একটি আনুষ্ঠানিক গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন সংশোধনের কথা ঘোষণা করেছেন। পূর্বেকার নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কেবল সরকারি কর্মচারী, নির্দিষ্ট ক্লার্ক বা নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকদেরই এই কাজে নিয়োগ করতে পারত। সংশোধিত নিয়মের ফলে এখন সেই পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা পাবেন নতুন দায়িত্ব

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসন, অনুদানপ্রাপ্ত কিংবা অনুদানহীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাস্ট বা সোসাইটির অধীনস্থ বিদ্যালয়গুলির শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরাও এখন থেকে গণনার কাজে যুক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি দফতর ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ ক্লার্ক ও অন্যান্য আধিকারিকদেরও এই কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কর্তৃপক্ষ নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী অন্য যে কাউকেও এই দায়িত্ব অর্পণ করতে পারে।

আসন্ন জনগণনার প্রস্তুতি ও সময়সূচি

স্বাধীনতার পর এটি ভারতের অষ্টমতম জনগণনা হতে চলেছে। ২০২১ সালেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মোট ১১,৭১৮ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি পৃথক পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে, যার প্রথম ধাপে আবাসন ও বাড়ির তালিকা তৈরির কাজ করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে হবে মূল জনসংখ্যা গণনা।

ইতিমধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল যেমন হিমাচল প্রদেশ, লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলিতে গত সেপ্টেম্বর মাসেই বাড়ির তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোয়া, উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে এবং উত্তরাখণ্ডের বাকি অংশে ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারির মধ্যে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে। মণিপুরে আপাতত এই প্রথম ধাপের কাজ স্থগিত রয়েছে এবং দেশের অন্যান্য অংশে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Sources: AajTak Bangla, Anandabazar Patrika, ETV Bharat.

Written by

Anil Pandey

Anil Pandey is a content writer and off-page SEO specialist with 2 years of experience in blog writing, content optimization, and link-building activities. He focuses on creating…