Wednesday, 4 November 2026

পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগ: আফগান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় বন্ধের আহ্বান ও সীমান্তে সংঘর্ষ

পাকিস্তান সরকার আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর তীব্র পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, সীমান্তে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে।

পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগ: আফগান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় বন্ধের আহ্বান ও সীমান্তে সংঘর্ষ

পাকিস্তান সরকার আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর তীব্র পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিভিশন থিংক ট্যাঙ্কে উল্লেখ করেছেন যে, কাবুলকে বহুবার আহ্বান সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় বন্ধের আহ্বান পাকিস্তানের

ইসহাক দার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কাবুল সফরের সময় আফগান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, যদি আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে ঐ গোষ্ঠীগুলো শেষ পর্যন্ত আফগান সরকারকেও হুমকি দিতে পারে। দার এই মন্তব্যের পরে তালি‌বান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন, দাবি করেন যে আফগান ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানি দায়ী করা সমস্যার সমাধান নয়।

তালিবানি গুলিবর্ষণে উত্তপ্ত পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত, খারলাচি সেক্টরে শুরু তীব্র সংঘর্ষ

সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণ ও তীব্র সংঘর্ষের ফলে দু'দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে যে, জানুয়ারি থেকে ২,৮০০টির বেশি জঙ্গি হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার উল্লেখ করেছেন যে, টিটিপি সহ অন্যান্য আফগান ভিত্তিক গোষ্ঠী এই আক্রমণের জন্য দায়ী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে টিটিপির যোদ্ধা সংখ্যা ছয় হাজারের বেশি এবং মোট জঙ্গি সংখ্যা বিশ হাজারের বেশি হতে পারে, যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য স্পষ্ট নয়।

পাক-আফগান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

দৈনন্দিন সংবাদ সূত্রে দেখা যায় যে, সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সংখ্যা বাড়ছে। ইউএন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বছর সীমান্তে সংঘর্ষে ১,১০০ এর বেশি বেসামরিক নাগরিক আহত বা নিহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেষ্টনী নির্মাণের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে, যা ২০১৭ সালে শুরু হয়। তবে জঙ্গিরা এখনও সীমান্ত অতিক্রম করে পাহাড়ি এলাকায় হামলা চালিয়ে যান এবং পরে ফিরে যায়।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা থাকলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক অভিযোগ এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান সংলাপের অগ্রগতি নির্ভর করবে কাবুলের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল ধ্বংসের কার্যকর পদক্ষেপের উপর।

Sources: NewsNow24, Aajkaal, Daily Bangla Post.

Frequently asked questions

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কীভাবে আফগান জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন?
ইসহাক দার কাবুলকে বারবার অনুরোধ করার পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায়, তিনি আফগান সরকারকে সতর্ক করেছেন যে, যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে ঐ গোষ্ঠীগুলো আফগান সরকারের নিজস্ব হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের বেষ্টনী নির্মাণের বর্তমান অবস্থা কী?
পাকিস্তান সরকার দাবি করে যে, দুই দেশ ভাগাভাগি করা প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ৯৫ শতাংশ বেষ্টনী কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০১৭ সাল থেকে শুরু করা হয়েছিল।
পাকিস্তান কোন প্রধান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে?
পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টি.টি.পি), নিষিদ্ধ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টকে প্রধান হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা আফগান ভূখণ্ড থেকে কার্যক্রম চালায়।
ইউএন এই বছরের সীমান্ত সংঘর্ষে বেসামরিক ক্ষতির কতজনের রেকর্ড রেখেছে?
সংযুক্ত জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন জানিয়েছে যে, চলতি বছরে সীমান্তে সংঘর্ষে ১,১০০ এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছে।
Written by

Tanya Singh

Tanya Singh is a Junior Bengali Content Writer who specializes in creating engaging, informative, and reader-friendly content in Bengali. She focuses on presenting information in…