সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও সাবিনা ইয়াসমিনের পদত্যাগ
শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন সাবিনা ইয়াসমিন। দলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই দল ও তার অভ্যন্তরীণ পটপরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
পারিবারিক ও শারীরিক কারণ
ইস্তফাপত্রে সাবিনা ইয়াসমিন পরিষ্কার জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগত ও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে তিনি বর্তমান দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। পাশাপাশি সময়ের অভাবেই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বড় কোনো দূরত্ব তৈরি না করে, একজন সাধারণ কর্মী ও কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দলের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন এবং সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এই প্রসঙ্গে আরও জানতে পড়তে পারেন সাবিনা ইয়াসমিন পদত্যাগ: তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন।
আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে। সেই সমস্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যে ১০ জন বিধায়কের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল, সেই তালিকায় নাম রয়েছে মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনেরও।
মোথাবাড়িকাণ্ড ও কেন্দ্রীয় তদন্ত
উল্লেখ্য, এর আগে মালদার মোথাবাড়িতে বিধানসভা ভোটের আগে SIR-এর কাজ করতে গিয়ে বিচারকদের হেনস্থা ও আটকের মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA-কে দেওয়া হয়। সেই মোথাবাড়িকাণ্ডে সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর তাঁকে তলব করেছিল এনআইএ। ভোটের ঠিক আগে এই সমস্ত ঘটনা এবং বর্তমান পদত্যাগের জেরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Sources: ABP Ananda, Anandabazar Patrika, BiswaBangla Sangbad.




